খবর লাইভ : একুশের যুদ্ধ মিটে গিয়েছে। সেই ভোটযুদ্ধ মিটতেই এবার রাজ্যের ৬টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হতে চলেছে। আর বাকি আছে রাজ্যের শতাধিক পুরসভায় নির্বাচন। যদিও এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয়, কোথায় কখন নির্বাচন হবে। কোনও নির্বাচনেরই দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে পুজোর আগেই তা অনুষ্ঠিত হতে পারে। মানে হাতে আর মাত্র ২-৩ মাস সময়। আর এই সময়ের মধ্যেই কেষ্টগড় বীরভূমে ঘর গোছাতে হবে তৃণমূলকে। কেননা একুশের ভোটযুদ্ধে জেলার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১০টিতে তৃণমূল জয়ের মুখ দেখলেও, জেলার ছটি পুরসভার মধ্যে পাঁচটিতেই পিছিয়ে গিয়েছে তারা।
বীরভূম জেলায় রয়েছে ৬টি পুরসভা। জেলার সদর শহর সিউড়ি, দুই মহকুমা শহর রামপুরহাট ও বোলপুর এবং তিন ব্লক শহর দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া ও নলহাটি। এদের মধ্যে নলহাটি ছাড়া বাকি পাঁচটি পুরসভা এলাকাতেই তৃণমূলের থেকে বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। আর এটাই রাজ্যের শাসক দলের কাছে মাথা ব্যাথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জেলার দুটি লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল জয়ী হলেও জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির থেকে পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সেই পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল। খালি দুবরাজপুরে জয়ের মুখ দেখেছে বিজেপি। দেখা যাচ্ছে, দুবরাজপুরে বিজেপির এই জয়ের নেপথ্যে কাজ করেছে পুরসভার বাসিন্দাদের সমর্থন। আবার লোকসভা নির্বাচনে যে পাঁচটি আসনে বিজেপি এগিয়ে ছিল সেখানেও এগিয়ে থাকার মূলে ছিল ওই সব বিধানসভা এলাকায় থাকা পুরসভাগুলি থেকে বিজেপির প্রতি মানুষের ঢালাও সমর্থন।
সেই হিসাবে দেখলে এটা পরিষ্কার জেলার ছটি পুরসভার মধ্যে পাঁচটি পুরসভা এলাকাতেই এখনও বিজেপির প্রতি সমর্থনের পাল্লা ভারী। ১৯ শের লোকসভা ভোটে যা ছিল, একুশেও তাই রয়েছে। আর এখানেই চিন্তা রাজ্যের শাসক দলের।
২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগেই হবে পঞ্চায়েতের নির্বাচন, ২০২৩ সালে। সেখানেও তো থাবা বসাতে পারে বিজেপি। এই চিন্তাটাই এখন বাড়ছে জেলার তৃণমূল শিবিরে। সব থেকে বড় প্রশ্ন, এত কিছু দেওয়ার পরেও কেন শহরের মানুষ তৃণমূলকে ভোট দিচ্ছে না? তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে সব সামাজিক প্রকল্প রূপায়ণ করছে তার সুবিধা কী শহরবাসী পাচ্ছেন না? নাকি এই মুখ ঘুরিয়ে থাকার পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে? উত্তর মিলছে এই সব শহরগুলিতে কান পাতলেই। প্রথম কথা, দক্ষিণবঙ্গের শহরগুলি বিশেষ করে দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুরের পুরসভাগুলি যেভাবে সাজানো হয়েছে বীরভূমের শহরগুলিতে কিন্তু তা হয়নি। উন্নয়নও সেই গতিতে হয়নি বলে অভিযোগ। বরঞ্চ সিউড়ির মতো শহরে অপরিকল্পিত ভাবে প্রচুর ফ্ল্যাট বাড়ি উঠে গিয়েছে। রাস্তার পরিসর কমেছে। অথচ শহরের জনসংখ্যা, রাস্তার যানবাহন বহুলাংশে বেড়ে গিয়েছে। কার্যত শহরের জনজীবন সেখানে নিত্যদিন থমকে দাঁড়াচ্ছে। মানুষ এর পরিবর্তন চাইছে। তাছাড়া বীরভূমের শহরগুলিতে শিক্ষার হার বেশ ভালো। সেই সঙ্গে বেকারত্বের হারও বেশ চড়া। নবীন প্রজন্ম চাকরি খুঁজলেও তাও চট করে মিলছে না। সবকিছু মিলিয়েই ক্ষোভ জমছে শহরে।
সব থেকে বড় কথা গোটা জেলায় সেভাবে নেতা আর কেউ উঠে আসেনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুব্রত মণ্ডলের হাত ধরেই গোটা জেলায় তৃণমূল চলছে। তাতে জেলায় দুর্নীতি অনেক অনেক কমেছে। কিন্তু রাজনীতি থেকেও অনেক ভালো মানুষও মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। অনেকেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন শুধুমাত্র অনুব্রতের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায়। ফলে জেলায় তৃণমূলের শহরের সংগঠনে বড়সড় ধস নেমে গিয়েছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভালো নেতা নেই। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কথা, মনের কথা তুলে ধরার মতো কেউ নেই। বলারও কেউ নেই। ফলে শহর এলাকার মানুষদের মধ্যে বিজেপির প্রতি নির্ভরতা বাড়ছে। একে বাড়তে দিলে আগামী দিনে তৃণমূলের পক্ষে জেলায় জমি হারাবার মুখে পড়তে হবে। উনিশের লোকসভার ফলাফল সেটা অনেকটাই দেখিয়ে দিয়েছে।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…