Categories: State

ফের ফিরছে বিধান পরিষদ, এই পরিষদের কাজই বা কী?

খবর লাইভ : বাংলাতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বিধান পরিষদ বা আইনসভার দ্বিতীয় কক্ষ চালু ছিল। তারপর আইনি ও সাংবিধানিক প্রয়োজন ফুরিয়েছে মনে করে, অনেক রাজ্যেই কক্ষটি তুলে দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সরকার ফের বিধান পরিষদ চালু করতে উদ্যোগী হয়। যদিও গত ১০ বছরে এই নিয়ে আর অগ্রগতি হয়নি। আবার সেই কক্ষ ফিরিয়ে আনার ইচ্ছে প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, বিহারের মতো রাজ্যগুলিতে বিধান পরিষদ রয়েছে। এই পরিষদের সদস্যরা মন্ত্রী, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীও হতে পারেন। অন্যান্য সরকারি কিংবা পরিষদীয় পদেও বসতে পারেন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে সেখানকার বিধান পরিষদেরই সদস্য। একইভাবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বিধান পরিষদের সদস্য। বেশ কিছুদিন আগে মমতা জানিয়েছিলেন, পূর্ণেন্দু বসু, অমিত মিত্র সহ কয়েকজনকে এবার প্রার্থী করা যায়নি। তবে তৃণমূল নেত্রীর প্রস্তাব হল বিধান পরিষদ গঠন করে তাঁদের সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা।

কী এই বিধান পরিষদ? আসলে বিধান পরিষদ অনেকটা সংসদের রাজ্যসভার মতো। রাজ্য আইনসভায় বিধানপরিষদই উচ্চ কক্ষ। রাজ্যসভার মতোই এই কক্ষের সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। সদস্যদের একদলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন বিধান সভার সদস্যরা। পঞ্চায়েত, পুরসভার সদস্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি, জনপ্রশাসন, ক্রীড়া জগতের বিশিষ্টদের জন্য বিধান পরিষদে আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকে। বিধানসভার সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ এই পরিষদের সদস্য হতে পারেন। তাঁদের মেয়াদ ৬ বছর। এই রাজ্যে বিধানসভা ভবনের মধ্যেই বিধান পরিষদের কক্ষটি এখনও রয়েছে। অর্থবিল ছাড়া আর সব ধরনের বিল পরিষদে পেশ করা যায়। তবে রাজ্যসভার মতো বিল আটকে দেওয়ার ক্ষমতা সাধারণভাবে বিধান পরিষদের থাকে না।

পশ্চিমবঙ্গ সহ বহু রাজ্য কেন তুলে দিয়েছিল বিধান পরিষদ? কেনই বা তা আবার ফেরানো হচ্ছে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধান পরিষদের সুযোগ নিয়ে অনেক পরাজিত রাজনীতিক পরিষদীয় রাজনীতিতে এবং প্রশাসনে ঢুকে পড়তে পারেন। অনেকের মতে এর ফলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়। উল্টে সরকারের খরচ বাড়ে। অন্য একটি মত হল, সরকারি কাজে চরিত্র বদলেছে। এমন অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে যেগুলি সম্পর্কে পেশাদার রাজনীতিকদের দখল কম। তাঁদের পেশাদারদের পরামর্শ নিতে হয়। বিধান পরিষদ থাকলে বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টদের সরাসরি প্রশাসন ও আইন সভায় নিয়ে আসা যায়। ১৯৫২ সালে প্রথম নির্বাচনের সময় থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার উচ্চকক্ষ হিসেবে বিধান পরিষদ ছিল। ১৯৬৯ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসে বিধান পরিষদ তুলে দেয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বিধান পরিষদ ফিরিয়ে আনেন, তবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার হারিয়ে যাওয়া এক অধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন হবে।

News Desk

Recent Posts

মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যু

খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…

2 months ago

গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ

খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…

2 months ago

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের গালে চড়, ৩১শে মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দিতেই হবে

খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…

2 months ago

রাজ্যের আবেদন খারিজ করল কমিশন, এসআইআর-র কাজে ভিন রাজ্যে যেতেই হচ্ছে স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ দুই সিপি-কে

খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…

2 months ago

রাস্তা সংস্কারের কাজে নিজেই হাত মেলালেন গাজোলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন

খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…

3 months ago

সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছল আইপ্যাক মামলার শুনানি,শুধুমাত্র দলের নথি নিয়েছিলাম: জানালেন মমতা

খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…

3 months ago