Special News Special Reports State

আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মিলল আরও এক কঙ্কাল, শনাক্তহীন দেহ দেখে স্বজনদের হাহাকার

0
(0)

খবর লাইভ : আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় গভীর রাতের এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। যেখানে একটি মোমো প্রস্তুতকারক কারখানা ও এর পাশে থাকা গোডাউনে আগুন লেগে বিশাল ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। রবিবার রাত ১টার পর থেকে টিনের ছাদের গোডাউনগুলো দাউ দাউ করে জ্বলে চলেছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত আছে।

ঘটনার সময় ফ্যাক্টরির ভিতরে কর্মীদের অবস্থান ও তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। রাতের ডিউটিতে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মীর ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং এখনো তারা কোথায় আছে তা জানা যায়নি। স্থানীয় দমকল সূত্রের মতে, ভেতরে অগ্নিকাণ্ডের স্থানে এখনও ‘পকেট ফায়ার’ আছে, ফলে দমকল কর্মীরা ভেতরের কাজ সম্পন্ন করতে পারছে না।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এতক্ষণে আট জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ২০ জনের নাম নিখোঁজ তালিকায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানানো হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং অনেকে এখনও নিখোঁজ। ঝলসে যাওয়া দেহগুলির কোনওটাই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

স্বজনেরা অভিযোগ করছেন, আগুন লাগার পর কাউকে  গুদামটির ভেতর থেকে বের করে আনার সময় পাওয়া যায়নি। এক আত্মীয় জানিয়েছেন, শেষবার যখন তারা সঙ্গে কথা বলেছিল, তখন বলছিলেন দেওয়াল ভেঙে বেরোনোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারপর আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

দমকল ও পুলিশের কর্মীরা এখনো ঘটনাস্থলে কাজ করছেন, পরিস্থিতি শান্ত এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন বলেই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সহানুভূতি জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

হাতড়েও তাঁদের হদিশ মেলেনি! দমকলকর্মীরাও এখনও কোনও সদুত্তর দিতে পারছেন না, একরাশ উৎকন্ঠায় পরিজনরা। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বললেন, তা শিউরে ওঠার মতো। এক আত্মীয় ওই ডেকরেটর্সের গোডাউনে কাজ করেন সুব্রত খাঁড়া। তিনি বললেন, আমি যেতে পারিনি। আমার সম্বন্ধী গিয়েছিল দেখতে। ভিতরে ঢুকে দেখে, পুড়ে সব ছাই হয়ে গিয়েছে। মাথাগুলো পড়ে রয়েছে লাইন দিয়ে। বলছে সবাই ৩০ জন ছিল ভিতরে। দমকল কর্মীদের আগে ওরা গিয়েছিল। ওরা তো এখানে কাজ করত, তাই রাস্তা চিনত। ওরাই পিছনের রাস্তা দিয়ে গিয়েছিল।

কালো ধোঁয়ায় ঢেকেছে এলাকা, নাক ঝাঝিয়ে দেওয়া পোড়া গন্ধ, কঙ্কালসার কারখানার বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, এক রাশ উৎকন্ঠা নিয়ে নিখোঁজদের পরিজনদের ভিড়- আনন্দপুরে  ফিরল বাগরি-নন্দরাম মার্কেটের ছবি।

কলকাতার বুকে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশ্ন ওই কারখানার অগ্নিনির্বাপক ব্য়বস্থা নিয়েও। সংশ্লিষ্ট কারখানা থেকে ড্রাম-ড্রাম পাম তেল উদ্ধার হয়েছে। দমকলবাহিনী মনে করছে, ওই পাম তেলের জেরেই কারখানা জুড়ে দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে লেলিহান শিখা। কিন্তু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্য়বস্থা থাকলে তা কি হত?

 

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *