National Special News Special Reports

ভারতের বাজিমাত, আরব আমিরশাহির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করলেন মোদি

0
(0)

খবর লাইভ : পশ্চিম এশিয়ায় ফের বাড়ছে উত্তেজনার পারদ। একদিকে গাজায় শান্তি ফেরাতে ভারতের অংশগ্রহণ চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বাড়ছে স্বার্থের সংঘাত। এই কূটনৈতিভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়েই ঝটিকা সফরে ভারতে এলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, এলএনজি এবং পরমাণু শক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মোট পাঁচটি চুক্তি এবং সাতটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছল দুই দেশ।৭, লোক কল্যাণ মার্গে মোদি ও বিন জায়েদের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা তৈরি হয়।

১. প্রতিরক্ষা:

দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ‘লেটার অফ ইনটেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে আমিরশাহির এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

২. বাণিজ্য:

বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০৩২ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণ করে ২০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।

৩. জ্বালানি:

ভারতের হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং আমিরশাহির অ্যাড গ্যাসের মধ্যে ১০ বছরের জন্য একটি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৮ সাল থেকে প্রতি বছর ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি পাবে ভারত। এর ফলে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ হতে চলেছে ইউএই।

৪. পরমাণু শক্তি:

ভারতে ‘শান্তি’ আইন পাস হওয়ার পর এই প্রথম দুই দেশ ছোট মডিউলার রিয়্যাক্টর এবং বড় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছে।

৫. অন্যান্য:

মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সুপার-কম্পিউটিং ক্লাস্টার তৈরি এবং গুজরাটের গিফট সিটিতে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক সংঘাতে জড়াবে না ভারত

বৈঠকের পর ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই বৈঠক ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তবে সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের আবহে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের কোনো দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর সহযোগিতার অর্থ এই নয় যে, ভারত সেই দেশের আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে।” দুই নেতাই সন্ত্রাসবাদ, বিশেষ করে সীমান্তপারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

কূটনৈতিক উষ্ণতা

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে নয়াদিল্লি। প্রোটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে বিমানবন্দরে গিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। গত সাড়ে এগারো বছরে এই নিয়ে অষ্টমবার প্রধানমন্ত্রী প্রোটোকল ভেঙে কোনো রাষ্ট্রনেতাকে রিসিভ করলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “দিল্লিতে শেখ মহম্মদের এই সফরে আমি অভিভূত। ভারত-ইউএই বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।” পালটা পোস্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইউএই-র প্রেসিডেন্টও। ফেরার সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাঁকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান।

ভবিষ্যতের রূপরেখা

বৈঠকে ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়নে বিনিয়োগ এবং আবুধাবিতে ‘হাউস অফ ইন্ডিয়া’ তৈরির কথাও ঘোষণা করা হয়। এছাড়া দুই দেশের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে সংযুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যাতে সীমান্তপারের লেনদেন আরও সহজ হয়। গাজা এবং ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কথা হয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *