International Special News Special Reports

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক বন্দি করে দেশছাড়া করার দাবি ট্রাম্পের, কোনও দেশ চাইলেই কি পারে

0
(0)

খবর লাইভ : ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করে দেশছাড়া করা হয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলায় শনিবার আকস্মিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা দাবি করছে, এই হামলা চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক গ্রেফতার করেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নিউইয়র্কে একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত মাদুরো। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মাদুরোকে সেখানে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

আমেরিকার সেনার এক বিশেষ ইউনিট ডেল্টা বাহিনী। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করতে এই বাহিনীকেই পাঠিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৫০ বছর আগে তৈরি হওয়া আমেরিকার এই বিশেষ বাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গোপনে অভিযান চালিয়েছে। ওসামা বিন লাদেনের খোঁজে আমেরিকার অভিযানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ডেলটা বাহিনীর। যদিও লাদেনকে হত্যা করেছিল মার্কিন নৌসেনার সিল বাহিনী। পেন্টাগনের সামরিক শক্তির একটি অন্যতম স্তম্ভ বলা যেতে পারে এই ডেল্টা বাহিনীকে। আমেরিকার এক অভিযান সামরিক শাখা। কাজ করে খুব গোপনে। ডেল্টা বাহিনীর অভিযানের খুব কম তথ্যই প্রকাশ্যে এসেছে। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে ‘অপারেশন প্রাইম চান্স’, ইরাক থেকে বন্দি উদ্ধার, আইএস জঙ্গি আবু বকর আল-বাগদাদির বিরুদ্ধে অভিযান, সোমালিয়ার অপারেশন গথিক সার্পেন্টের মতো কিছু অভিযানে ডেল্টা বাহিনীর জড়িত থাকার কথা শোনা যায়।

তবে এতে কিছু প্রশ্নের উদ্রেক ঘটে, অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো দেশ চাইলেই কি অন্য দেশে হামলা চালাতে পারে বা সেই দেশের প্রধানকে আটক, গ্রেফতার বা তুলে নিতে পারে? আন্তর্জাতিক আইনের মূল ভিত্তিই হলো কোনো দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

জাতিসংঘের সনদের অনুচ্ছেদ ২(৪) অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র অন্য কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা হামলার হুমকি দিতে পারে না।
তবে এখানে দুটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি বিশেষ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি থাকে তাহলে নির্দিষ্ট দেশে হামলা চালানোর বৈধতা আছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ চার্টারের ৫১ নাম্বার ধারা অনুসারে, কোনো দেশের তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষার প্রয়োজন হলে, সেক্ষেত্রে জাতিসংঘ অনুচ্ছেদ ২(৪) এর ব্যতিক্রম ঘটবে।

কাগজে-কলমে তাত্ত্বিকভাবে এ ধরনের কাজকে অবৈধ বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো এ ধরনের কাজ করে থাকে। তবে কোনো রাষ্ট্র এসব কাজ করলেই তা আইনসিদ্ধ হয়ে যায় না।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, এক দেশ অন্য দেশে হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে নিয়ে যেতে পারে না। এটি জাতিসংঘ সনদ, সার্বভৌমত্বের নীতি এবং রাষ্ট্রপ্রধানের দায়মুক্তি—এই তিনটি প্রধান আইনি স্তম্ভের সরাসরি লঙ্ঘন।
কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তা সমাধানের জন্য কূটনৈতিক বা আন্তর্জাতিক আদালতের পথ অনুসরণ করতে হয়। সামরিক হামলা এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *