খবর লাইভ : ছট পুজো একটি প্রাচীন হিন্দু উৎসব। যা প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা বোঝায় এবং জীবনদায়ী শক্তিকে সম্মান জানানো বোঝায়। কেন করা হয় ছট পুজো আর ছটি মাইয়াই বা কে? জেনে নিন বিস্তারিত।
কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে ছট মহোৎসব পালিত হয়। চারদিনের এই উৎসব সন্তানের দীর্ঘায়ু, সুখ-সৌভাগ্য ও উন্নত জীবনের জন্য করা হয়। কার্তিক শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি থেকে এই উৎসবের সূচনা হয়। ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্জলা উপবাস রাখা হয় এই পুজোয়। এই উৎসবে মুখ্যত সূর্য ও জলকে সাক্ষী মেনে পুজো করা হয়। মনে করা হয়, ছট পুজো বৈদিক কাল থেকে প্রচলিত । এই ব্রত মুখ্যত ঋষি দ্বারা রচিত ঋগ্বেদ, সূর্য পুজো ও ঊষা পুজো করা হয়।
জানুন ছট পুজো সম্পর্কে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি সম্পর্কে। রামায়ণ অনুসারে কথিত আছে যে, বনবাস থেকে ফিরে আসার পর শ্রীরামচন্দ্র এবং সীতা দেবী কার্তিক মাসের শুক্ল ষষ্ঠীতে সূর্যদেবের আরাধনা করেছিলেন।
মহাভারত অনুসারে কেউ কেউ মনে করেন, পাণ্ডবরা বনবাসে থাকাকালীন অন্নকষ্ট দূর করার জন্য রাজপুরোহিতের পরামর্শে সূর্য আরাধনা করেছিলেন। আবার সূর্যপুত্র কর্ণও প্রতিদিন নিষ্ঠাভরে সূর্যকে অর্ঘ্য দিতেন।
রাজা প্রিয়ব্রতর গল্প- একটি প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, নিঃসন্তান রাজা প্রিয়ব্রত মহর্ষি কাশ্যপের পরামর্শে যজ্ঞ করেন। কিন্তু রানী মালিনী মৃত সন্তান প্রসব করেন। এরপর ব্রহ্মার মানসপুত্রী ষষ্ঠী দেবী (ছঠি মাইয়া) আকাশ থেকে এসে শিশুকে আশীর্বাদ করে বাঁচিয়ে তোলেন। তখন থেকেই রাজা এই দেবীর পুজো শুরু করেন।
আবার অন্য এক প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, মহাভারতের সময়কাল থেকে ছট পুজো শুরু হয়। মনে করা হয়, সবার আগে সূর্যপুত্র কর্ণ সূর্যের পুজো করে করেন। কর্ণ প্রতিদিন কোমর পর্যন্ত জলে দাঁড়িয়ে থেকে সূর্য পুজো করতেন ও অর্ঘ্য দিতেন। সূর্যের আশীর্বাদেই তিনি মহান যোদ্ধা হন। তাই ছটে সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। আবার আর একটি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, পাশা খেলায় নিজের সমস্ত রাজ্য হেরে যাওয়ার পর দ্রৌপদী ছট ব্রত পালন করেন। এই ব্রত পালনের পর পাণ্ডবব নিজের রাজ্য ফিরে পান।
লোককথা অনুযায়ী, সূর্যদেব ও ছট দেবী ভাই-বোন। তাই ছট পুজোয় ছট দেবীর সঙ্গে সূর্যের আরাধনা ফলদায়ী মনে করা হয়।
অন্য দিকে রামায়ণেও ছট পুজোর উল্লেখ পাওয়া যায়। কথিত আছে, সীতাও ছট পুজো করে ছিলেন। ১৪ বছরের বনবাসের পর যখন রাম অযোধ্যা ফিরে আসেন, তখন রাবণ বধের পাপ থেকে মুক্তির জন্য ঋষি-মুনির আদেশে রাজসূয় যজ্ঞ করার সিদ্ধান্ত নেন। এর জন্য মুগ্দল ঋষিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু মুগ্দল ঋষি রাম ও সীতাকেই নিজের আশ্রমে আসার আদেশ দেন। ঋষির আজ্ঞায় রাম ও সীতা আশ্রমে এলে সেখানে তাঁদের ছট ব্রত সম্পর্কে জানানো হয়। ঋষি মুগ্দল গঙ্গা ছিটিয়ে সীতাকে পবিত্র করেন ও কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে সূর্যদেবের উপাসনার আদেশ দেন। তার পর সেখানে থেকেই সীতা ৬ দিন পর্যন্ত সূর্য পুজো করেন।
অনেকের বিশ্বাস অনুযায়ী, ছটি মাইয়াকে সূর্যদেবের বোন হিসেবেও গণ্য করা হয়। তাই এই উৎসবে ভাই-বোন সূর্যদেব ও ছটি মাইয়া উভয়কেই ভক্তি সহকারে পুজো করা হয়। ছট পুজো হল সূর্যের শক্তিকে ও সন্তানের মঙ্গলকারি দেবীকে একসঙ্গে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও আশীর্বাদ চাওয়ার এক মহান উৎসব।
ছট পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল – এর কঠোর নিয়ম ও পবিত্রতা। ভক্তরা টানা চার দিন ধরে ব্রত পালন করেন, যার মধ্যে প্রায় ৩৬ ঘণ্টার নির্জলা উপবাস (জল গ্রহণ না করে উপবাস) অন্তর্ভুক্ত। এই সময় পবিত্র স্নান, শুদ্ধ নিরামিষ আহার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ছট পুজো প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং নারী শক্তির প্রতীক। এই উৎসব কঠোর শারীরিক ও মানসিক শৃঙ্খলারও শিক্ষা দেয়। এটি পরিবারকে একত্রিত করে এবং সমাজ ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর বন্ধন তুলে ধরে। এই কারণে প্রাচীন এই উৎসব আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও জনপ্রিয়।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…