চিরাচরিত প্রথা মেনে আজও শতাব্দী প্রাচীন টাকি রাজবাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জন হয়ে আসছে ৷ এদিনও দশমীর সকালে মা দুর্গাকে বরণ করে ঠাকুর দালানে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন রাজবাড়ির মহিলারা ৷ টাকি রাজবাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জনে কোনও যানের ব্যবহার হয় না ৷ ২৪ জন বেয়ারার কাঁধে করে ইছামতি নদীতে নিয়ে যাওয়া দুর্গা প্রতিমাকে ৷ প্রাচীন এই রীতি আজও বহন করে চলেছে রাজবাড়ির বর্তমান প্রজন্ম ৷ প্রতিমা নিরঞ্জনের পর ঠাকুর দালানে বসে সকলে মিলে পান্তা ভাত, কচু শাক, আলু সিদ্ধ, আলু ভাজা ও মিষ্টি খেয়ে থাকেন ৷ পঞ্জিকা মতে টাকি রাজবাড়ি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে ইছামতিতে ৷
প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে ইছামতি নদীতে সকাল থেকে তুমুল ব্যস্ততা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে ৷ রয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নজরদারিও ৷ ইছামতির মাঝ বরাবর লক্ষ্মণ রেখা টেনে দিয়ে অর্থাৎ ইছামতি নদী বক্ষে জলের মধ্যে দুই বাংলার সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছে ৷ কিন্তু আজ সেসবের কোনও অস্তিত্ব নেই ৷ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারিতে দুই দেশের প্রতিমা বিসর্জন হয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ইছামতিতে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের শতাব্দী প্রাচীন রেওয়াজ ৷ ভৌগোলিক বিভাজন ভুলিয়ে দিয়ে দুই দেশের মানুষকে এক করে দেয় এই দিনটা ৷ এই নিরঞ্জনকে ঘিরে একেবারে অন্যরকম আবেগ এবং অনুভূতি কাজ করে ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের মানুষের ৷ এই বিসর্জনের সাক্ষী থাকতে বাইরে থেকেও বহু মানুষ আসেন টাকিতে ৷ সেহেতু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয় বিএসএফ এবং বিজিবি-র তরফে ৷ তৎপর থাকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও ৷
এপারের প্রতিমা ভারতীয় সীমান্তের মধ্যে বিসর্জন হয়ে থাকে ৷ অন্যদিকে, ওপারের প্রতিমা বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে বিসর্জন দেওয়া হয় ৷ চিরাচরিত এই রীতি বজায় রাখতে ইছামতিতে স্পিড বোটে করে সীমানা বরাবর চক্কর দেয় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা ৷ ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন এবং পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট জেলা প্রশাসনের মধ্যে ইছামতি নদীপক্ষে একটি উচ্চপর্যায় বৈঠক হয়েছে ৷ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ প্রতিমা নিরঞ্জনের পাশাপাশি পুরো টাকি শহর ঘিরে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ৷ শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৷