খবর লাইভ : মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরে ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের মেগা সমাবেশ , ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালন। প্রতিবছর এই দিনটি শুধু এক আবেগ নয়, শাসক দলের শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম প্রধান মঞ্চ হিসেবে দেখা যায়।এবারের শহিদ দিবস সভা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক প্রস্তুতি। নজরুল মঞ্চে কিংবা ধর্মতলায়, লাখো কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেবেন, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।
আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। দিন ঘোষণা হতে বেশ কিছুদিন বাকি থাকলেও, ইতিমধ্যেই তার দামামা বেজে গিয়েছে। এবারের ২১ জুলাইয়ে তৃণমূল নেত্রীর বার্তা হতে পারে অনেকটাই নির্বাচনমুখী। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এটি হতে পারে মমতার গুরুত্বপূর্ণ ‘পলিটিক্যাল লঞ্চপ্যাড’। সম্প্রতি বিজেপির বাড়বাড়ন্ত প্রচার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভা, যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে আসার প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে মমতা কী বার্তা দেন, তা নিয়ে কড়া নজর রাজনৈতিক মহলের।
এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির যা পরিস্থিতি, তাতে এই বছরের ২১ জুলাইয়ের সভায় মুখ্যমন্ত্রী মূলত তুলে ধরতে পারেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের খতিয়ান। রাজ্যের প্রাপ্য টাকা, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে তৃণমূল সরকারের ‘বঞ্চনার’ ইস্যু, বাংলা-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সুর চড়াতে পারেন তিনি।
একইসঙ্গে, বাংলার সংস্কৃতি ও ‘বাঙালি অস্মিতা’ রক্ষার বিষয়টিও উঠে আসতে পারে তার বক্তব্যে। গতকালই দুর্গাপুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে শাসক দলের দুর্নীতি তুলে ধরে বাঙালিয়ানার স্বপক্ষে বক্তব্য রেখেছেন, তারও কড়া জবাব এদিনের সভা থেকে দেবেন তৃণমূল নেত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের বার্তায় জাতীয় রাজনীতির দিশাও দিতে পারেন মমতা। লোকসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের ব্যর্থতার পর মমতা কীভাবে জোট রাজনীতিতে নিজের অবস্থান স্থির করেন, তা স্পষ্ট হতে পারে এই সভা থেকেই। আসলে তৃণমূল এবার স্বতন্ত্র অবস্থানেই জাতীয় রাজনীতিতে পা বাড়াতে চায়। সেই বার্তাও শহিদ দিবসের বক্তৃতায় উঠে আসতে পারে।
এছাড়াও কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও উন্নয়নের ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ বার্তা দিতে পারেন দলীয় কর্মী সমর্থকদের। একই সঙ্গে বিজেপিকে একহাত নিতে গিয়ে বাংলার ‘গৌরব’ রক্ষার বার্তা দিয়ে জনসমর্থন সংহত করার চেষ্টাও থাকবে তাঁর।
সব মিলিয়ে, আগামী ২১ জুলাই শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের নয়, বরং গোটা রাজ্য রাজনীতির দিক থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে কোন নতুন স্লোগান উঠে আসে, কোন রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত মেলে, তা জানতে অপেক্ষায় গোটা বাংলা।
প্রতিবছরের মতো এবারও এই ঐতিহাসিক সভা হয়ে উঠতে চলেছে দলের রাজনৈতিক রণকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এই সভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক সুর নিতে পারেন নেত্রী। বাংলা বঞ্চনার অভিযোগ, রাজ্যের প্রাপ্য টাকা না পাওয়া, ১০০ দিনের কাজসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ। এসব ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতে পারেন তিনি।
এমনকি, বিজেপি এবং তাদের সাম্প্রতিক প্রচার অভিযানকেও পাল্টা জবাব দিতে পারেন মমতা। এরই পাশাপাশি, নেত্রী এবার রাজ্যবাসীর উদ্দেশে উন্নয়নমূলক বার্তাও দেবেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে রাজ্য সরকারের কাজ তুলে ধরেই তিনি চাইবেন জনভিত্তি আরও মজবুত করতে। নেত্রীর বার্তার অপেক্ষায় লক্ষাধিক কর্মী সমর্থক এ বছরও ধর্মতলায় হাজির হবেন বলে মনে করছে তৃণমূল। তবে এবারের সভায় দল নেত্রীর বার্তার পাখির চোখ যে আগামী বিধানসভা নির্বাচন তা হলফ করে বলা যায়।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…