চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় : রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে আজ এক অদ্ভুত ও উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ছাত্রাবাস, যেখানেই চোখ ফেরান সেখানেই এক বা একাধিক ‘মনোজিৎ মিশ্রে’র মতো চরিত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এঁরা হয়তো পদের দিক থেকে ‘টিচার ইন চার্জ’, ‘কো-অর্ডিনেটর’, কিংবা ‘ছাত্র ইউনিয়নের নেতা’। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এঁদের ভূমিকা শিক্ষার পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করার নাম করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করা। সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে ফুলেফেঁপে ওঠা ও নিজেদের সমস্ত মনোস্কামনা পূর্ণ করা।
কসবায় সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে মনোজিৎ মিশ্র নামের এক প্রাক্তন ছাত্রের কুকীর্তি। যাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপোষণের অভিযোগ। কিন্তু এই মনোজিৎ একা নন। প্রতিটি জেলার কলেজে তাঁর মতো একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় শিক্ষাঙ্গনকে নিয়ন্ত্রণ করেন। এঁরা শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেন, আর ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠরোধ করে তোলেন দলীয় স্বার্থে।
এই ধরনের ব্যক্তিদের পিছনে রাজনৈতিক আশীর্বাদ তো আছেই, সঙ্গে রয়েছে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা। সরকার কিংবা শাসকদল তাদের উপযুক্ত ভূমিকা থেকে সরে এসে এসব চরিত্রকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। কারণ, এঁরা গ্রাউন্ড লেভেলে দলীয় কাজ করেন, ভোটে লোকবল দিয়ে সাহায্য করেন, কলেজ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এঁদের মাধ্যমে নেতারা কলেজকে ‘মিনি ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করেন। পাশাপাশি ছাত্রদের চমকে তাদের কাছ থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রেও এঁদের ভূমিকা প্রশ্নাতীত।
এক সময় ছাত্র রাজনীতি ছিল আদর্শভিত্তিক। ছাত্রদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠত সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার। আজ তা হয়ে উঠেছে নিছক ক্ষমতা ও পদের লড়াই। মনোজিৎ মিশ্রদের মতো নেতার ছত্রচ্ছায়ায় ছাত্র সংগঠনগুলো হয়ে উঠেছে ‘ব্রিগেড’। যাঁরা প্রশ্ন করলে আক্রমণ করেন, প্রতিবাদে মুখ বন্ধ করে দেন।
অথচ কলেজের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষা প্রদান ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরি। অথচ আজ এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, মূল্যায়ন, প্রশাসন, সব কিছুতেই দলীয় রঙ। প্রশ্ন উঠছে, এই সব মনোজিৎদের রেখে আসলে কিসের ফায়দা তুলছেন রাজনীতিকরা? একদিকে যেমন নির্বাচনের সময় গ্রাউন্ড লেভেলে কাজ করানোর ‘ক্যাডার’ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ছাত্রসমাজের স্বাধীন চেতনা ও গণতান্ত্রিক চর্চা ধ্বংস হচ্ছে।
মনোজিৎ মিশ্রর মতো চরিত্র শুধুমাত্র একটি নাম নয়, একটি প্রতীক। এটি একটি সিস্টেমের প্রতিফলন, যেখানে শিক্ষা নয়, রাজনীতি মুখ্য। যদি অবিলম্বে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না করা যায়, তবে রাজ্যের শিক্ষাঙ্গন এক গভীর সংকটের দিকে এগোবে, যার মূল্য দিতে হবে আগামী প্রজন্মকে।
এই মনোজিতের নামে ভুরিভুরি অভিযোগ। কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও তার আচরণ কখনওই ছাত্রসুলভ ছিল না, অভিযোগ এমনটাই। বেআইনি ভর্তি থেকে শুরু করে কলেজের তহবিলের অপব্যবহার, এমনকি অধ্যক্ষকে হেনস্থার ঘটনাও রয়েছে তার নামের পাশে।
অভিযুক্ত ছাত্র থাকাকালীনই একাধিকবার অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে রেখেছিল। শুধু তাই নয়, বেআইনি ভর্তি, আর্থিক অনিয়ম, এবং ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে একাধিকবার থানায় অভিযোগ জানানো হলেও, কেন এবং কিভাবে সে এতদিন পর্যন্ত কলেজের প্রভাবশালী মুখ হয়ে রইল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
অভিযুক্তর বিরুদ্ধে একাধিকবার থানায় অভিযোগ জানানো হলেও, কেন এবং কিভাবে সে এতদিন পর্যন্ত কলেজের প্রভাবশালী মুখ হয়ে রইল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আসলে, যদি শুরুতেই আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো এতদূর গড়াত না।
২০২৩ সালে কলেজে ফিরে আসার পর ফের একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে গুণধর তৃণমূল নেতা তথা কসবা কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মনোজিতের বিরুদ্ধে। শ্লীলতাহানি, সহপাঠীদের মারধর, ভয় দেখানো, টাকা তোলা, তালিকা দীর্ঘ।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এই অভিযুক্তকে কারা প্রশ্রয় দিয়েছিল? তার পিছনে রাজনৈতিক মদত ছিল কি? কেন এত অভিযোগের পরও সে দিনের পর দিন কলেজ চত্বরে অঘোষিত ‘সুপারভাইজার’ হয়ে থেকে গেল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজের মেরুদণ্ড সোজা রাখার চেষ্টা করুন আপামর বাঙালি। কি পারবেন তো? না হলে কিন্তু, আগামী দিনে আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সামনে পড়তে হবে।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…