চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় : দক্ষিণ কলকাতার কসবায় আইন কলেজে গত ২৫ জুন ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় পাওয়া গিয়েছে ৯০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও, যা অভিযুক্তদের মোবাইলে পাওয়া যায় ।
এই ভিডিওর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই অনলাইনে সেই ভিডিওর খোঁজ শুরু হয়েছে। ‘কলকাতা ল-কলেজ রেপ ভিডিও’ সার্চ রীতিমতো ট্রেন্ড করছে গুগলে। গুগলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন বিকেল ৩.৩০ মিনিট থেকে ২৮ জুন দুপুর ১.৩০ মিনিট পর্যন্ত ঘন ঘন এই ভিডিও সংক্রান্ত সার্চ হয়েছে । পরের দিন, অর্থাৎ ২৯ জুনও গুগলে খোঁজ চলেছে এই ‘রেপ ভিডিওর। সংখ্যাটা লক্ষাধিক।
এই ধরনের ‘রেপ ভিডিও’র ট্রেন্ড প্রথম নয়। এর আগে আরজি কর কাণ্ডের সময়ও আলোড়ন ফেলেছিল নির্যাতিতার নাম দিয়ে ধর্ষণের ভিডিও সার্চ। ফের ধর্ষণের ভিডিওর ‘চাহিদা’ আকাশছোঁয়া। কিন্তু, এই ধরনের নিম্নরুচির ঘটনা কেন ঘটছে বার বার? আটকানোর কি কোনও উপায় নেই?
সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনার নেপথ্যে আমাদের বিকৃত মস্তিষ্ককেই দায়ী করছেন। তাদের বক্তব্য, এই বিষয়টিকে আটকানো খুব শক্ত। তার কিছু কারণও রয়েছে। সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ সায়ন হালদার জানিয়েছেন, এই যে ঘটনা ঘটছে, তার অন্যতম মাধ্যম ‘অনিয়ন’। যার অর্থ হল, এর একটা মূল উৎস আছে। তার উপরে পেঁয়াজের খোসার মতো নানা স্তর থাকে। নানা শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে আছে। পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষে সেই পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে উৎসে পৌঁছনো খুব কঠিন। এ ছাড়া এখানে ‘অরবট’ বলে একটা সার্ভিস আছে। এই ‘অরবট’ অন করে যদি কেউ সার্চ করেন, তা হলে কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় ব্যবহারকারী কোথায় বসে এসব খুঁজছেন। তারই ফায়দা নিচ্ছেন সবাই।
সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাইট এখনও অ্যাক্টিভ রয়েছে, যেগুলি নর্মাল ব্রাউজার দিয়ে ওপেন হবে না। তেমনই অসংখ্য ব্রাউজার রয়েছে, যেগুলি ব্যবহার করে এই ধরনের সাইটে পৌঁছনো যায়। আসলে যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, তারা ‘অনিয়ন’, ‘অরবট’-এর মতো সার্ভিসের সঙ্গে পরিচিত।
এই ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি সাত বছর। আসলে এখন আর কেউ শাস্তির ভয় পান না। তাই অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধার উপর ভর করে এই ধরনের অপরাধ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এগুলো বন্ধ করতে নিজের মানসিকতাও বদলাতে হবে। তা না হলে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কোনও মেয়ের নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ দেখতে চাওয়ার মধ্যে প্রত্যক্ষভাবে বিকৃত মস্তিষ্কের সমস্যা লুকিয়ে আছে। তিনি স্পষ্ট জানান, মনের রোগ আর মানসিক বিকৃতি কিন্তু এক নয়। অনেকেই দু’টিকে এক বিন্দুতে মিলিয়ে দেন। মানসিক ভাবে কেউ যদি বিকৃত হয়ে থাকেন, তা হলে এই ধরনের ইচ্ছা থাকতেই পারে। সেই মানুষগুলির পর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই সবার আগে প্রয়োজন, আপনার আমার মানসিকতার পরিবর্তন। তবেই এই ধরনের ট্রেন্ড কমবে।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…