২০১৭ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করেন। সেই মুহূর্তে তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট নাম “ইজরায়েল” উল্লেখ না করলেও অকপটে দাবি করেন, “আমি কখনও ‘ইজরায়েল’ শব্দটি বলিনি”। এই মন্তব্যে প্রকাশ পায় ট্রাম্পের মোসাদ সংক্রান্ত আবেগপূর্ণ আস্ফালন; যদিও বাইরেও বোঝা যায় কতটা সংবেদনশীল এই বিষয়।
ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে মার্কিন হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় ফিরেছে শান্তি। যুদ্ধ বন্ধ হলেও মূল প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এখনও অধরা। ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির স্বপ্নকে কি চিরতরে ধূলিসাৎ করতে পেরেছে আমেরিকা? না কি বিশেষ লাভ হয়নি? গোপনে গোপনে ফের সেই কাজ শুরু করতে পারবে তেহরান? এই ব্যাপারে নিজের দেশের গোয়েন্দা রিপোর্টকেই অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে আমজনতার মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে দেরি হয়নি।
ইজরায়েলের শীর্ষ গুপ্তচর সংস্থা মোসাদকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে ধরা হয়। ২০১০ সালে স্টাক্সনেট হামলা এবং ২০১২–১৩ সালের ইরানের বিজ্ঞানীদের হত্যাকাণ্ডে মোসাদের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মিউনিক অপহরণ’ ও ‘অপারেশন র্যাথ অফ গড’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশন মোসাদ পরিচালনা করেছে, যা অনেকের চোখে সিনেমার চিত্রনাট্যর মতো মনে হয়। মার্কিন সরকারের সার্বভৌম তথ্যভাণ্ডার ও বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই গুপ্তচর সংস্থা।
মোসাদ ছোট অথচ দক্ষ একটি বাহিনী, যা নিয়ে ট্রাম্প তার একাধিক মন্তব্যে তাঁদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা তুলে ধরেছেন। কিন্তু কেন ট্রাম্প মোসাদের প্রতি বেশি আস্থা রাখছেন?
ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারি আধিকারিকদের থেকে বেশি নির্দিষ্টভাবে কিছু তথ্য পাননি। তবে ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি প্রমাণ করেছেন, তার আস্থা কোথায়। যদিও তিনি বলেন, “কখনও নাম বলিনি”, যা ইঙ্গিত দেয় ভরসার কথা।
ইরান ও অন্যান্য দেশে মিসাইল, সাইবার ও হত্যাকাণ্ড অপারেশনের জন্য মোসাদকে নেপথ্য শক্তি হিসেবেই বিশ্বাস করেন অনেকে।