খবর লাইভ : বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে, অবশেষে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
রবিবার ভোররাতে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী), ইরানের ফোরডো, নাতানজ এবং ইসফাহান পরমাণুকেন্দ্রে একযোগে আক্রমণ চালানো হয়। মার্কিন বোমারু বিমানের মাধ্যমে ফেলা হয় জিবিইউ-৫৭ ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা, যা সাধারণ বোমার তুলনায় অনেক গভীরে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। ফোরডো কেন্দ্রেই ছ’টি বাঙ্কার বাস্টার ফেলা হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
এই হামলায় ব্যবহৃত হয় বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান, যা একসঙ্গে ১৫ টন বোমা বহন করতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনী ‘টোমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসফাহান ও নাতানজ কেন্দ্রেও হামলা চালায়। হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
তবে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন একটু সংযত বিবৃতি দিয়ে জানায়, হামলায় তিনটি কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঠিকই, তবে পূর্ণাঙ্গ ধ্বংস হয়েছে কি না, তা মূল্যায়নে সময় লাগবে।
এদিকে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানায়, পাহাড়ের প্রায় ৩০০ ফুট নিচে অবস্থিত ফোরডো কেন্দ্রটি পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ‘এপি’ জানিয়েছে, ফোরডোর আশপাশের এলাকাগুলিতে ধোঁয়ার চিহ্ন ও ভূমির পরিবর্তন স্পষ্ট দেখা গেছে।
ইসফাহান কেন্দ্রে হামলার একটি ৩৭ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে, যা ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করেছে। খবর লাইভ এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সুড়ঙ্গমুখে প্রবল বিস্ফোরণ ও আগুনের রক্তিম ঝলকানি।
ইরানের পক্ষ থেকে যদিও দাবি করা হয়েছে, হামলার পর কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণ পাওয়া যায়নি এবং নাগরিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তেহরান আরও জানায়, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী উপযুক্ত জবাব দেবে এবং প্রতিশোধ অনিবার্য।
ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘‘আমেরিকার পালানোর পথ নেই। এই আগ্রাসনের কঠিন মূল্য দিতে হবে তাদের।’’ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, হামলার দু’দিন আগেই ফোরডো কেন্দ্রে অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, বহু মালবাহী ট্রাক এবং বুলডোজার পরমাণুকেন্দ্রের আশপাশে মোতায়েন ছিল, যা ইঙ্গিত দেয়, হয়তো হামলার পূর্বাভাস পেয়েই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সরানোর চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
এই হামলার পরে ট্রাম্প একে আমেরিকা ও ইজরায়েলের জন্য ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে আখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘‘এবারও যদি ইরান আলোচনায় না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হামলা হবে।’’ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘‘শক্তির মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’’
তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা যুদ্ধের দুয়ার খুলে দিল। এর জবাবে ইরান কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী ভূরাজনৈতিক চিত্র।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…