খবর লাইভ : মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক অশান্তির প্রেক্ষাপটে নিহত হরগোবিন্দ দাস ও তার ছেলে চন্দন দাসের স্ত্রীদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ তাদের জোর করে তুলে নিয়ে যেতে চাইছে। এ নিয়েই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে চিঠি লিখে নিজেদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানায়, ‘অপহরণ’-এর অভিযোগের ভিত্তিতে জঙ্গিপুর ও বিধাননগর পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায় এবং কলকাতার সল্টলেকে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। তবে নিহতদের পরিবারের দাবি, এটি অপহরণ নয়, তারা নিরাপত্তাহীনতায় আত্মগোপন করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ কোনও মহিলা কনস্টেবল ছাড়াই জোর করে ঘরে ঢুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ঘটনার পর বিজেপি নেতা সজল ঘোষ ও আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ঘটনাস্থলে গিয়ে দাবি করেন, প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল আগামী মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের সুতিতে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় তাদের উপস্থিত করানো। সেই উদ্দেশ্যেই পুলিশি অভিযান চালানো হয় বলে তাদের মত।
রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে নিহতদের স্ত্রীদের অভিযোগ, আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যেতে চাই না, যেখানে আমাদের স্বামীদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মিথ্যা শান্তির গল্পে ঢাকা দেওয়া হবে। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, হরগোবিন্দের ছেলে ভয় দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন এবং পুলিশের কাছ থেকে তারা কোনও নথিও পাননি।
নিরাপত্তার অভাব বোধ করে পরিবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন ও কলকাতা হাই কোর্টে যাওয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলেছে।
এ প্রসঙ্গে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার অমিত সাউ বলেন, অপহরণের অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়ম মেনেই অভিযান চালানো হয়েছে। যেসব অভিযোগ উঠছে, তা ভিত্তিহীন।




