খবর লাইভ : ওয়াকফ সংশোধনী আইন ২০২৫-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া ১১টি পিটিশনের শুনানি টানা দ্বিতীয় দিনও চলল সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবারের মতো বুধবারও প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি-পাল্টাযুক্তির পর আদালত জানিয়ে দিয়েছে—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না।
বিচারপতি গাভাই ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জের বেঞ্চে মঙ্গলবার প্রায় চার ঘণ্টা শুনানি চলে। আইনজীবী কপিল সিব্বল ও হাফেজা আহমদির পক্ষে থেকে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের একাধিক ধারা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। তাঁদের দাবি, আইনের ৩ডি ধারা মূল বিলের অংশ ছিল না এবং তা সংসদীয় প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সিব্বল বলেন, “এই আইনে বলা হয়েছে, কেউ ওয়াকফ করতে চাইলে প্রমাণ করতে হবে তিনি অন্তত পাঁচ বছর ইসলাম ধর্ম পালন করছেন। যদি কেউ মৃত্যু শয্যায় থাকেন এবং সম্পত্তি ওয়াকফ করতে চান, তখনও তাঁকে ধর্ম পালনের প্রমাণ দিতে হবে—এটা কীভাবে সম্ভব?” হাফেজা আহমদিও প্রশ্ন তোলেন, “ধর্মপালনের যাচাইয়ের মানদণ্ড কী, তা তো আইনে বলা নেই।”
সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিও যুক্তি দেন, “এই সংশোধনী আসলে ওয়াকফ জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যেই তৈরি।” তাঁদের অভিযোগ, নতুন আইনে সরকার বা গ্রাম পঞ্চায়েত ওয়াকফ জমি নিয়ে আপত্তি তুললে সেই জমির ওয়াকফ মর্যাদা বাতিল হয়ে যেতে পারে। সিব্বল বলেন, “সরকারি অফিসাররাই তখন বিচারকের ভূমিকা পালন করবেন—এটা সাংবিধানিক ভারসাম্য নষ্ট করে।”
সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, আবেদনকারীরা মূল বিষয়ের বাইরে গিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলছেন। তিনি বলেন, শুনানির বিষয় যেন সীমাবদ্ধ থাকে তিনটি নির্দিষ্ট বিষয়ে—ওয়াকফ জমির ব্যবহার, ওয়াকফ কাউন্সিলে অমুসলিম সদস্যদের নিয়োগ, এবং রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডগুলোর ভূমিকা ও সরকারি জমি চিহ্নিতকরণ।
প্রধান বিচারপতি গাভাই স্পষ্ট করে বলেন, “সংসদে পাশ হওয়া কোনও আইন স্বাভাবিকভাবে সংবিধানসম্মত ধরা হয়। আদালত কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করবে, যখন কোনো গুরুতর অসঙ্গতি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।”
এই মামলাটি দেশের ধর্মীয় সম্পত্তি সংক্রান্ত নীতিমালার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মত আইনজ্ঞদের। আগামী শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত বিচার-বিশ্লেষণ হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।




