খবর লাইভ : উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া এলাকার কলেজ ছাত্রী তানিয়া পারভিনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি ৭০টিরও বেশি জিহাদি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে যুক্ত ছিলেন এবং পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবা ও আইএসআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
এনআইএ-র তদন্তে জানা গিয়েছে, তানিয়া পারভিন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতেন। তার মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট বিশ্লেষণ করে এনআইএ-র তদন্তকারীরা পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে যে, তানিয়া পারভিন পাকিস্তানে বসবাসরত আইএসআই এজেন্ট আয়েশা সিদ্দিকি ও বিলাল দুরানির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তাদের নির্দেশে তিনি সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতেন। এনআইএ-র চার্জশিটে আয়েশা সিদ্দিকিকে লস্কর-ই-তৈবার কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, তানিয়া পারভিনের মোবাইল ফোন থেকে পাকিস্তানি বায়ুসেনা আধিকারিক আয়েশা সিদ্দিকির উর্দি পরা ছবিও উদ্ধার হয়েছে। এনআইএ-র তদন্তে আরও জানা গেছে যে, তানিয়া পারভিন পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট তৈরি করতে চেয়েছিলেন এবং তার নাম পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছিলেন।
এনআইএ-র তদন্তে তানিয়া পারভিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, ষড়যন্ত্র এবং ইউএপিএ-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা তার বিরুদ্ধে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন।
এটি একটি উদ্বেগজনক ঘটনা, যা আমাদের দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।




