খবর লাইভ : পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর চন্দ্রভাগা নদীর উপর থাকা ‘রণবীর’ খাল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। এই খাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে পশ্চিমমুখী চন্দ্রভাগা নদী থেকে আরও বেশি জল ভারতে প্রবাহিত করা সম্ভব হবে। ফলে বাড়বে সেচ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুবিধা।
নয়াদিল্লি রণবীর খালটির দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে প্রায় ১২০ কিলোমিটার করার পরিকল্পনা করছে। সরকারি এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এতদিন চন্দ্রভাগার জল ভারত সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করত। কিন্তু চুক্তি স্থগিতের ফলে এখন এই জলকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পথ খুলে গিয়েছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
জানা গিয়েছে, সরকার ইতিমধ্যেই এই খাল সম্প্রসারণের জন্য প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে। শুধু রণবীর খাল নয়, কাঠুয়া, রবি ও পরাগওয়ালের মতো অন্য খালগুলিরও পলি সরিয়ে জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, যেখানে প্রাণ হারান ২৬ জন। ভারত এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে। তার পরই ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব দিকের বিপাশা, শতদ্রু ও ইরাবতী নদীর জল ভারত ব্যবহার করে এবং পশ্চিমমুখী সিন্ধু, বিতস্তা ও চন্দ্রভাগার জল ব্যবহারের অধিকার ছিল পাকিস্তানের। পাকিস্তানের কৃষিক্ষেত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ এই জলস্রোতের উপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই খাল সম্প্রসারণ শুধু জল ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন নয়, বরং কূটনৈতিক দিক থেকেও একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে আপাতত সংঘর্ষবিরতি বজায় থাকলেও, জলবণ্টন নীতিতে ভারতের কড়া অবস্থান আগামিদিনে আরও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।




