খবর লাইভ : বিকাশ ভবনের সামনে রাতভোর বিক্ষোভ-অবস্থান চালানোর পর, শুক্রবার সকাল থেকেই ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চাকরিহারা আন্দোলনকারীদের আন্দোলন। সকালেই কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
চাকরি হারানো আন্দোলনকারীদের সমর্থনে এদিন সকালে বিকাশ ভবনের সামনে হাজির হন বিজেপির কয়েকজন নেতা। তবে তাদের কারোরই হাতে ছিল না দলীয় পতাকা বা ঝান্ডা। আন্দোলনকারীরা আগেই জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক সমর্থন স্বাগত হলেও, দলীয় প্রতীক ছাড়া তবেই আন্দোলনে যোগ দেওয়া যাবে।
পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে বিকাশ ভবন কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও বিকেল ৩টার মধ্যে সমস্ত কর্মীদের ছুটি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে পুলিশের দাবি, নির্ধারিত সময়ের পরও প্রায় ৫০০-৬০০ কর্মী ভবনের ভেতরে আটকে ছিলেন, যাদের বের করতে গিয়েই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।
ঘটনার বিষয়ে সুপ্রতীম সরকার (এডিজি দক্ষিণবঙ্গ) জানান, বিকেল পর্যন্ত আমরা সংযম দেখিয়েছি। কিন্তু ছুটির পরও যখন কর্মীরা আটকে যান, তখন তাদের বের করার সময় আন্দোলনকারীরা বাধা দেন ও পুলিশের উপর চড়াও হন। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে বলপ্রয়োগ করতে হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসির ২৫,৭৩৫ জনের চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে কমিশনকে। অভিযোগ, এর ফলে অনেক ‘যোগ্য’ শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরও চাকরি গিয়েছে। তাঁরাই আন্দোলনে নেমেছেন। কখনও এসএসসি ভবনে, কখনও আবার বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ দেখান চাকরিহারাদের একাংশ।
রাজ্য পুলিশের সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে চাকরিহারা শিক্ষকদের বক্তব্য, ‘আমরা কোনও বলপ্রয়োগ করিনি। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে চাকরি গিয়েছে। ইচ্ছে করে কেউ এখানে আন্দোলন করছে না। এখন ওরা প্রোটোকলের কথা বলছে। তবে যখন চাকরি স্বচ্ছভাবে দেওয়ার কথা ছিল তখন এই প্রোটোকল কোথায় ছিল?’ সার্বিকভাবে, পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও, পুলিশের কড়া নজরদারিতে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।




