খবর লাইভ : ফের সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল হুগলি জেলার বেআইনি সাট্টার কারবারের ডন হিসেবে পরিচিত সন্তু দাসের বিরুদ্ধে। হুগলির চণ্ডীতলা থানার জনাই এলাকার বাসিন্দাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন সন্তু ও তাঁর সাগরেদরা। তবে এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এর আগেও সন্তুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক নেতার হাত তাঁর মাথার উপর থাকাতে পুলিশ কোনোরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উল্টে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোই সন্তু ও তাঁর দলবল এলাকার লোকজনকে মারধর করেছিল। পুলিশের কাছে অভিযোগ না জানালেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন জানাই এলাকার বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিন ধরেই হুগলি জেলায় বেআইনি সাট্টার কারবার করে আসছেন জনাইয়ের বাসিন্দা সন্তু। তাঁর নিজের বাড়ির কাছেও এই বেআইনি কারবারের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মানুষকে সর্বশান্ত করছেন। বহু মানুষ সাট্টা খেলায় হেরে গিয়ে বাড়িতে অশান্তি করছেন। এলাকার লোকজন একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে সন্তু এলাকার লোকজনকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বলেন, আমার কেউ কিছু করতে পারবে না। নেতা থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন সকলেই আমার হাতের মধ্যে রয়েছে। এলাকার লোকজন তাই অতিষ্ঠ হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সহ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছেন।
সন্তুর বেআইনি কারবার অবশ্য শুধুমাত্র জনাইয়েই সীমাবদ্ধ নেই। চণ্ডীতলা, মশাট, হরিপাল সহ হুগলি জেলার একাধিক জায়গায় সিন্ডিকেট তৈরি করে এই বেআইনি কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। হুগলি জেলার এক দুষ্কৃতির কালো টাকা সাদা করছেন এই সাট্টার কারবারের মাধ্যমেই। অভিযোগ এলাকার লোকজনের। তবে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি সাট্টার কারবার করলেও প্রশাসনের একশ্রেণীর হাত তাঁর মাথার উপর থাকায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়নি।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এলাকার লোকজন আমাদের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন। প্রশাসনের উচিত কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।’
সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, ‘এলাকার লোকজনের উচিত বিক্ষোভ দেখানো। আমাদের দলের নেতা কর্মীদের বলবো বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে।’
এখন দেখার, পুলিশ আদৌ সাট্টা কারবারের হুগলি জেলার ডন সন্তু দাসের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করে কিনা!




