National Special News Special Reports

ওয়ানাড়ের ক্ষয়ক্ষতির স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করল ইসরো, মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়ালো

0
(0)

খবর লাইভ : ব্যাপক ভূমিধ্বসে জেরবার কেরলের ওয়ানাড়। গ্রামের পর গ্রাম চলে গিয়েছে মাটির তলায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে ভারতীয় সেনা এবং এনডিআরএফ। ঘটনার দু’দিন পর ক্ষয়ক্ষতির স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।মঙ্গলবার আচমকাই পার্বত্য এলাকা ওয়ানাড়ে ভূমিধস নামে। ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ ২০৬ জন।ভূমিধসে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেমেছে ভারতীয় সেনা এবং এনডিআরএফ। ইসরোর উন্নত কার্টোস্যাট ৩ অপটিক্যাল স্যাটেলাইট এবং রিস্যাট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ভূমিধ্বসে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করেছে হায়দরাবাদের ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার।

এনআরএসসি-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণেই ১,৫৫০ মিটার উচ্চতায় ভূমিধ্বস নামে। গত কয়েকদিন ধরেই চুরমালা শহর এবং আশপাশে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। প্রবল বেগে বইছে নদী।ফলে ভূমিধস আরও তীব্র হয়। ভূমিধ্বসের ক্ষেত্রফল ৮৬ হাজার বর্গমিটার। স্যাটেলাইটে ভূমিধ্বসের আগের এবং পরের ছবি উঠে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, ধ্বসের কারণে নদীর গতিপথ আরও চওড়া হয়ে গিয়েছে। ফলে নদী তীরবর্তী বাড়ি এবং অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩০৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের সম্পূর্ণ দেহ উদ্ধার করা যায়নি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে মিলেছে দেহাংশ মাত্র।ড্রোনের মাধ্যমে মৃতদেহের সন্ধান চলছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একাধিক কুকুরকেও এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সারা দিন চালিয়ার নদীর জলে ভেসে এসেছে একের পর এক দেহাংশ। সেগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। চূড়ালমালা, আত্তামালা, নুলপুঝা এবং মুন্ডাক্কাই গ্রাম দুর্যোগের পর নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসস্তূপ। কাদামাটিতে এখনও বহু দেহ আটকে আছে বলে আশঙ্কা। মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে দেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। মাটি সরতেই বেরিয়ে আসছে দেহ কিংবা দেহাংশ।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ভূমিধ্বসের থ্রিডি ছবি তৈরি করেছে ইসরো। তাতে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের ঢালের একটা বড় অংশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্যাটেলাইট ডেটায় উঠে এসেছে, একই জায়গায় এর আগেও ভূমিধ্বস হয়েছিল। ফলে মাটির আর এই ধরণের দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা ছিল না। ওয়ানাডের বেশ কয়েকটি জায়গায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সেনা।মন্ত্রী কে রাজন জানিয়েছেন, খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেনা ও এনডিআরএফের ১৬০০ জনের বেশি উদ্ধারকাজে যুক্ত রয়েছেন। অনেক সমাজকর্মীও যোগ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ কালপেট্টা পৌঁছেছেন। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করবেন। তারপর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।

তিনি আরও জানিয়েছেন, চুরমালা ও মেপ্পাদিতে বাস্তুচ্যুত ৫৭৮টি পরিবারের ২,৩২৮ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৯টি ত্রাণশিবিরে। এখনও পর্যন্ত ৯৪টি ত্রাণশিবিরে মোট ৯হাজার৩২৮ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *