খবর লাইভ : আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের ঘনিষ্ঠ চিন্ময় সামন্তের বিপুল সম্পত্তি নিয়ে এবার অভিযোগ জমা পড়ল বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি ও সিবিআইয়ের কাছে অপরূপার প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চিন্ময়ের বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি রাখার অভিযোগ জমা পড়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন খানাকুল এলাকার লোকজন।
খানাকুলের বাসিন্দাদের দাবি, ২০১৪-তে অপরূপা সাংসদ হওয়ার পরই ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে চিন্ময়ের। এক সময় আর্থিক অনটনে ভুগতে থাকা চিন্ময়ের আর্থিক অবস্থা ভালো হতে শুরু করে। এলাকার লোকজনের দাবি, সাংসদের আপ্তসহায়ক হওয়ার সুযোগ নিয়ে চিন্ময় লোকের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেন। কাউকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেন তো কাউকে আবার সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নিতে শুরু করেন। ঠিকাদারদেরও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তুলতে থাকেন বলে অভিযোগ খানাকুলের লোকজনের। এছাড়া বেআইনিভাবে কেউ পুকুর ভরাট করলে বা প্রমোটিং করলে তাঁদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন চিন্ময় বলে অভিযোগ। এলাকার লোকজনের পাশাপাশি তৃণমূলের একাংশও অপরূপার প্রাক্তন আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাঁদের দাবি, ২০১৪ সালের পর চিন্ময় ফুলেফেঁপে উঠেছেন। খানাকুলের তাঁতিশাল এলাকার বাসিন্দা একসময় প্রাইভেট টিউশন করতেন। পরে তিনি হুগলির শিয়াখালা, গোঘাটে পেট্রোল পাম্প করেন। বেশ কয়েকটি জায়গায় হোটেল ও রেস্তোরাঁও খোলেন। পাশাপাশি একাধিক জায়গায় জমি কেনেন। শুধু তাই নয়, গ্যাসের গোডাউন, বাদাম কল, কোল্ড স্টোরেজেরও মালিক এই চিন্ময় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট নিজের নামে রাখারও অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, চিন্ময়ের মতো ব্যক্তিদের জন্যই খানাকুল এলাকায় তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
চিন্ময় অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ আমি আয়কর দিই, সব প্রমাণ আছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’ তবে ভুয়ো প্রতিবন্ধী শংসাপত্র রাখার বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অপরূপা পোদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। বিজেপি নেতৃত্বও চিন্ময়ের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি করেছেন।




