খবর লাইভ : প্রায় দু’দশক আগের ফ্ল্যাশব্যাক। ধর্মতলার মোড়ে মেট্রো সিনেমাহলের উল্টোদিকে এমনই এক ধর্নামঞ্চ। সেখানে সিঙ্গুরের ‘অনিচ্ছুক’ কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনশনে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যতক্ষণ না জমি ফেরানো হবে, ততক্ষণ অনশন চলবে। ঠিক যেমন বৃহস্পতিবারের আরও এক ধর্নামঞ্চ থেকে তাঁর ‘উত্তরসূরি’ অভিষেক ঘোষণা করলেন, ‘‘যতক্ষণ না রাজ্যপালের সঙ্গে আমরা দেখা করতে পারব, ততক্ষণ আমি এই ধর্নামঞ্চ ছাড়ব না।’’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এমন সিদ্ধান্ত এই প্রথম! গত মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে তাঁদের ‘হেনস্থা’র প্রতিবাদে সেই রাতেই অভিষেক ঘোষণা করেছিলেন, বৃহস্পতিবার ‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচির কথা। ঠিক ছিল, মিছিল করে এসে রাজ্যপাল সিভি আনন্দবোসের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা স্মারকলিপি দেবেন ‘বাংলার গরিব মানুষের বকেয়া টাকা’ ফেরত দেওয়ার জন্য। যে দাবি তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে দেখা করেননি। কিন্তু অভিষেক ছাড়ার পাত্র নন। রাজ্যপাল ‘কেন্দ্রের প্রতিনিধি’। তাই তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে ওই স্মারকলিপি দেবে তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার জনস্রোত নিয়ে ডালহৌসির রেড ক্রস প্লেসে রাজভবনের সামনে হাজির হন ‘তৃণমূলের সেনাপতি’। ততক্ষণে সেখানে মঞ্চ বাঁধা হয়ে গিয়েছে। তখন থেকেই খানিকটা আন্দাজ করা গিয়েছিল যে, অভিষেক রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসে পড়তে পারেন। কারণ, ততক্ষণে সকলে জেনে গিয়েছেন যে, রাজ্যপাল রাজভবনে নেই। তিনি দিল্লি থেকে উত্তরবঙ্গে এসে বন্যা পরিস্থিতি দেখে আবার দিল্লিতেই ফিরে গিয়েছেন। কবে ফিরবেন, তা খুব একটা নিশ্চিত নয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে বকেয়া অর্থের দাবিতে গত মার্চ মাসে রেড রোডে দু’দিনের ধর্না কর্মসূচি নিয়েছিলেন মমতা। সেটিই তৃণমূলের সর্ময় নেত্রীর সাম্প্রতিকতম ধর্না। কাকতালীয় ভাবে, রেড ক্রস প্লেসে একই দাবিতে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম ধর্না-অবস্থান শুরু করলেন অভিষেক।
‘প্রথম’ শব্দটির মধ্যে সম্ভবত একটিু বাড়তি ব্যঞ্জনা যোগ করে গেলেন এক যুবতী। সঙ্গে কোনও নিরাপত্তারক্ষী নেই। আশেপাশে কোনও নেতা-নেত্রীর ভিড় নেই। রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় নিঃশব্দে এলেন এবং একটা সাদা এসইউভি-তে চড়ে প্রায় একাই ফিরে গেলেন। স্বাভাবিক। অভিষেক রাজনীতিক হলেও তাঁর স্ত্রী তো তা নন। কিন্তু এই প্রথম কলকাতা শহরের রাস্তায় ধর্নায় রাত কাটাবেন রুজিরার স্বামী। স্ত্রীকে তো এক বার সেখানে আসতেই হত।
অভিষেকের মঞ্চে প্রথমদিন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তিনি একে একে বক্তৃতা করতে ডেকেছেন প্রবীণ নেতাদের। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম— যাঁরা ধর্মতলার মোড়, সিঙ্গুরের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে, হাজরা মোড়, বেদী ভবনের মতো অজস্র অবস্থান মঞ্চে আন্দোলনরত মমতার সঙ্গী থেকেছেন। ছিলেন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, বিধায়ক তাপস রায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো ‘পুরনো’রা।
মমতা প্রায়ই বলেন, ‘‘নেতা গাছে হয় না। আন্দোলনের গর্ভেই জন্ম হয় নেতার।’’ আর খানিকটা তৃপ্তির সঙ্গেই জানান, তিনি দলের দ্বিতীয় প্রজন্মকে তৈরি করে দিয়েছেন। মমতা নিজে আন্দোলনের ফসল। আন্দোলনের রাস্তাতেই মমতার রাজনৈতিক উত্থান। তাঁর জুতোয় পা গলালেন অভিষেক। যিনি এখন আগ্রাসী বিরোধী নেতার ভূমিকায়। দিল্লিতে যা শুরু হয়েছিল, তার রাশ তিনি ধরে রেখেছেন কলকাতায় ফিরেও।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…