এদিন দুর্গাপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য কোনও জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। কোনও টেন্ডার হয়নি। কোনও ওয়ার্ক অর্ডার হয়নি। শুধু মাত্র সামনের নির্বাচনের জন্য শিলান্যাস করা হচ্ছে। এটা একটা “ঢপ বাজির শিলান্যাস” ।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গুর যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায় জনজোয়ারে ভীত হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী জনসভায় বলেছিলেন, এই রাজ্যের শিল্প বা বিনিয়োগ তখনই সম্ভব, যখন আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে। এই সিঙ্গুরকে আজ শ্মশানে পরিণত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ পর্যন্ত সেখানে কোনও শিল্প হয়নি। টাটাদের কারখানা ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি সিঙ্গুর থেকে টাটাদের তাড়িয়েছেন মাথায় ট্রিগার ঠেকিয়ে। এটা আমার কথা নয়। এই কথা প্রয়াত রতন টাটা নিজে বলেছিলেন। তাই তিনি গুজরাটে নরেন্দ্র মোদির কাছে গিয়ে এই শিল্প করেছিলেন। এই বাংলা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে ৬৮৮৮ টি বিনিয়োগকারী শিল্প ফিরে চলে গেছে।
শুভেন্দু আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সভার এক সপ্তাহের পর এখন তিনি সিঙ্গুরে যাচ্ছেন বাংলার বাড়ি প্রকল্প নিয়ে। ২০১৪ সালের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর সারা ভারতবর্ষ জুড়ে ছয় কোটি গ্রামীণ বা রুরাল বাড়ি তৈরি হয়েছে। এছাড়াও এদিন রাজ্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন দুর্ঘটনা নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় নিন্দা জানান শুভেন্দু অধিকারী।
আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে রাজ্যের দমকল মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। তিনি এও বলেন, এত বড় দুর্ঘটনা ঘটার পরেও মুখ্যমন্ত্রী সেখানে এখনও পর্যন্ত একবারও যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন অনুষ্ঠান, উৎসব, সমাবেশ করে বেড়াচ্ছেন। আমি নিজে কাল সেখানে যাবো ও মিছিল করবো।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শোকের সময়ে রাজনীতি লজ্জাজনক। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে একে “সস্তা এবং ভিত্তিহীন” বলে অভিহিত করেছেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যখন সমগ্র দেশ শোকাহত এবং প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, তখন এই ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য করা নিন্দনীয়। পশ্চিমবঙ্গের মতো শিক্ষিত এবং বৃহৎ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্য লজ্জাজনক। তিনি অভিযোগ করেন যে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করা কেবল অনুপযুক্তই নয়, বরং শোকের অনুভূতিতেও আঘাত করে। এই ধরনের বক্তব্য কেবল বিজেপির নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের নিন্দা করা উচিত।