কী ঘটেছে?
শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর সিঙ্গাপুরে মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বহু বড় শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
বিক্ষোভ ও অশান্তির বিস্তার
প্রথমে ঢাকা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, কুষ্টিয়া, বরিশাল সহ অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় টানাবনা, গাড়ি-পথ অবরোধ এবং ট্রেন-সেবা বিঘ্নিত হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা “ন্যায়ের দাবিতে” এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছে।
গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানেও তাণ্ডব
ঢাকায় দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর অফিসে ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সাংবাদিকরা ভিতরে আটকে পড়ে উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ভাঙচুরকারীরা কেবল পত্রিকার অফিসেই থামে নাই — ছায়ানটসহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, বই ও বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভকারীরা কিছু জায়গায় ভারতবিরোধী এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ বিরোধী স্লোগান দিয়েছে, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার, জনাব মুহাম্মদ ইউনূস, শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেরি হয়েছে।
বাংলাদেশে তরুণ নেতার মৃত্যুতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে। সড়ক, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান — সব জায়গায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রশাসন কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য শান্তি, দমন না করে ন্যায়ের হিসাব ও সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।