২৬ হাজার চাকরিহারারাও তো অনেক বছর চাকরি করেছিল, সেই রায় ভুল: প্রশ্ন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

খবর লাইভ : ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক ২০২৩ সালের একক বেঞ্চের রায়ে চাকরি হারানোর মুখে পড়েছিল। সেই নির্দেশ ছিল বিচারপতি অভিজিত গাঙ্গুলির। তবে বুধবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় বাতিল করে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নবনির্ধারিত রায়ে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং ঋতব্রত মিত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রায় এক দশকের চাকরির পর হঠাৎ ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করলে তারা এবং তাদের পরিবার “অযাচিত দুর্ভোগ” ভুগবে। আদালতই উল্লেখ করেছে শুধু কয়েকজনের অনিয়মের জন্য ৩২ হাজারের একসঙ্গে চাকরি হারানো অন্যায় ও অনুচিত হবে।

অভিজিৎ গাঙ্গুলীর প্রতিক্রিয়া

প্রাক্তন বিচারপতি এবং বর্তমানে সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলী বলেছেন, যে ২৬ হাজারের মতো চাকরি হারিয়েছিলেন  তাদের রায় ছিল কি ভুল? অর্থাৎ, তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি পুরনো রায় ভুল হয়ে যায়, তাহলে তাঁদের লেখা রায়কে নতুন রায়ে কীভাবে স্থির করা যায়। যদিও ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এখন আর অন্য মন্তব্য করতে চাননি।

তবে তিনি যুক্তি সহ জানিয়েছেন, ২০১৬–২০২৫ পর্যন্ত দীর্ঘ চাকরি প্রাপ্ত লোকদের চাকরি বজায় রাখার যে কারণ ডিভিশন বেঞ্চ দিয়েছে, সেটা তাঁর মতে যথেষ্টভাবে “গ্রাউন্ড” হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

অভিজিৎ বলেন, ২৬ হাজার চাকরি যাদের বাতিল হল, তারাও তো অনেক বছর চাকরি করেছিল। তা হলে কি সেই রায় ভুল? আমার মনে হয় এটা কোনও গ্রাউন্ড হতে পারে না।  হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ডিভিশন বেঞ্চের বিচার করার ক্ষমতা আছে, তারা যা ভাল মনে করেছে, করেছে। আমার কিছু বলার নেই। বিচারপতি হিসাবে আমি যা মনে করেছিলাম, বলেছিলাম।

আদালত কী বলেছে

ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ৩২ হাজারের নিয়োগ প্রক্রিয়া-বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ওঠেছিল, পুরো পরীক্ষার পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, শুধু ৩৬০টি ক্ষেত্রে  অনিয়মের “সম্ভাবনা” পাওয়া গেছে, আর বাকি প্রায় ৩১,৬৪০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষ কাণ্ড হয়নি। এমন অবস্থায়, পুরো গ্রুপকে চাকরি হারানোর মতো সিদ্ধান্ত অভিযোগের তুলনায় অপরিমেয় ও অযৌক্তিক হবে।

বিচারপতিরা আরও বলেছেন, দীর্ঘ ৯ বছর চাকরি করার পর যদি কারও হঠাৎ চাকরি বাতিল হয়, তাহলে শুধু ব্যক্তির নয় তার পরিবার, সামাজিক মর্যাদা, আর্থিক ও সামাজিক জীবনে বড় ধাক্কা লাগবে। তাই এমন গণবিচার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী প্রভাব

নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা রায়ে স্বস্তি অনুভব করেছেন। প্রায় এক দশক ধরে চাকরির অনিশ্চয়তায় থাকার পর, তাঁদের জীবনে স্থিরতা এসেছে। অনেকেই বলছেন, মনের একটা ভার গলে গেল। যদিও বিরোধীরা, যারা ২০১৪-র নিয়োগে বাদ পড়েছিলেন তারা বলছেন, এখনও দুর্নীতির অভিযোগ অমীমাংসিত রয়েছে। তারা সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু শ্রমিক সংগঠন ও শিক্ষক সম্প্রদায়ের একাংশ মনে করছে, নতুন রায় বহু পরিবারকে নতুন করে সামাজিক মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।

News Desk

Recent Posts

মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যু

খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…

6 months ago

গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ

খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…

6 months ago

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের গালে চড়, ৩১শে মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দিতেই হবে

খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…

6 months ago

রাজ্যের আবেদন খারিজ করল কমিশন, এসআইআর-র কাজে ভিন রাজ্যে যেতেই হচ্ছে স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ দুই সিপি-কে

খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…

7 months ago

রাস্তা সংস্কারের কাজে নিজেই হাত মেলালেন গাজোলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন

খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…

7 months ago

সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছল আইপ্যাক মামলার শুনানি,শুধুমাত্র দলের নথি নিয়েছিলাম: জানালেন মমতা

খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…

7 months ago