বুধবার আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল ইমরান সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তাঁকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার খবর ভুয়ো। কিন্তু ইমরানের পরিবারের দাবি উল্টো ছবি তুলে ধরছে। তাঁর বোন নোরিন নিয়াজি জানিয়েছেন, জেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইমরানের বিষয়ে কোনও তথ্যই তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না।
ইমরানের ছোট ছেলে কাসিম খান সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বাবার নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইমরানকে গত ছয় সপ্তাহ ধরে একাকী মৃত্যুকূপে রাখা হয়েছে, অথচ পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা বা ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কাসিম আরও লিখেছেন, তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয় ইমরান আদৌ জীবিত কি না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে হস্তক্ষেপের আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। কড়া সুরে সতর্ক করে কাসিম বলেছেন, ইমরানের কোনও ক্ষতি হলে তার দায় নিতে হবে পাক সরকারকে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করার কথা। কিন্তু নভেম্বরে একবারও তাঁদের সেই সুযোগ হয়নি। ফলে পরিবারের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
ইমরান ২০২৩ সাল থেকে জেলবন্দি। আল কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাঁকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সাজা হয়েছে তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিরও। গত সেপ্টেম্বরে সমাজমাধ্যমে ইমরান অভিযোগ করেছিলেন, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নির্দেশে জেলের ভিতর তাঁদের মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সাক্ষাৎ ও যোগাযোগে কড়াকড়ি বাড়তে শুরু করে। ক্রমশ সন্দেহ গভীর হচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা।