খবর লাইভ : রাজ্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন এবার বিশেষ নজরে নিয়েছে ভোটার তালিকার এক বড় সংশোধনী প্রক্রিয়া, যাকে বলা হচ্ছে “এসআইআর”।
কেন এসব করা হচ্ছে?
প্রতিবার নির্বাচন আগেই ভোটার তালিকা সংশোধন হয়। কিন্তু ইসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নাম তোলা ও বাদ দেওয়া প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ রয়েছে।
এই কারণে, যাতে একজনও বৈধ ভোটার বাদ না পড়েন এবং একইসঙ্গে অবৈধ ভোট কারচুপি ঠেকানো যায়, সে কথা মাথায় রেখে এসআইআর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
কোথায় দাঁড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গ?
পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ বড় পরিবর্তন হয় ২০০২ সালে। এখন প্রায় ২৩ বছরের পর আবার এই সংশোধনী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা এখন প্রায় ৭.৬৫ কোটি।
নথি যা লাগবে
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের কাছে একটি “এনুমারেশন ফর্ম” দেওয়ার কথা। এই ফর্মের সঙ্গে নিচের ১১টি নথির মধ্যে যেকোনো একটি জমা দিতে হবে:
• কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন বা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র।
• ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই-এর আগে ব্যাংক, পোস্ট অফিস, এলআইসি বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনো ডকুমেন্ট।
• জন্ম শংসাপত্র।
• পাসপোর্ট।
• মাধ্যমিক বা তার অধিক শিক্ষাগত শংসাপত্র।
• রাজ্য সরকারের অনুমোদিত বাসস্থানের শংসাপত্র।
• ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।
• জাতিগত শংসাপত্র।
• স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্টার।
• জমি বা বাড়ির দলিল।
• উল্লিখিত ১১-এর পাশাপাশি আধার কার্ড গ্রহণযোগ্য, তবে এটি একমাত্র নয়।অধিকর্তারা বলছেন, আধার কার্ডের সঙ্গে ওপরের কোনো এক পুরনো নথি জমা দিতে হবে।
কারা বাদ পড়তে পারেন ও কেন?
• ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাদের নাম নেই, এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে তাদের নাম বাদ পড়তে পারে।
• মৃত, বিদেশে গেছেন বা একাধিক জায়গায় একাধিক এপিক নম্বরে নাম আছে এমন ভোটারদের নাম বাদ পড়তে পারে।
• কারচুপি করে নাম তোলা হয়েছে এবং ২০০২ সালের তালিকায় তাদের বাবা বা মায়ের নাম নেই—এসব ক্ষেত্রে সন্দেহবাজ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পরবর্তী ধাপ ও ফলাফল
• যারা বর্তমানে ভোটার তালিকায় রয়েছেন, তারা তাদের এনুমারেশন ফর্ম পাবেন। তাদের তথ্য যেমন নাম, ঠিকানা, এপিক নম্বর এসবই ফর্মে থাকবে।
• যারা নতুনভাবে নাম উঠাতে চান—তাঁদের আলাদা ফর্মে আবেদন করতে হবে।
• এসআইআর প্রক্রিয়ায় অংশ না নিলে ২০২৬ সালের নির্বাচনের নতুন তালিকায় নাম থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
এখন সংশোধন করার প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য, এসআইআরের জন্য নির্দিষ্ট কোনও দিনক্ষণ নেই। প্রয়োজন মনে হলে করা হয়। যদিও কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, এসআইআরে ‘বিজেপির ভাবনা’ কাজ করছে। বিজেপির ধারণা, বাংলাদেশ এবং মায়ানমার থেকে ভারতে ঢোকা প্রায় এক কোটি অনুপ্রবেশকারী এ দেশের ভোটার তালিকায় রয়েছেন। কমিশনকে দিয়ে এসআইআর করিয়ে সেই নামগুলি বাদ দিতে চায় বিজেপি। তাই এত বছর পরে এসআইআর হচ্ছে।
এসআইআরের ম্যাপিং কী?
২০০২ সালে রাজ্যে ভোটার ছিল ৪.৫৮ কোটি। এখন তিন কোটি বেড়ে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭.৬৫ কোটি। যার উপর ভিত্তি করে বিশেষ সংশোধন করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমে কমিশন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক, বিএলওদের নিয়ে ম্যাপিংয়ের কাজ করছে। ২০০২ সালের সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই তালিকাতেই যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা ম্যাপিংয়ের আওতায় আসছেন। অর্থাৎ, ওই ভোটারদের চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা যে ভারতীয় নাগরিক, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত কমিশন। তাঁদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে কোনও নথির প্রয়োজন নেই।
২০০২ সালের তালিকা কোথায় পাওয়া যাবে?
সিইও দফতরের ওয়েবসাইটে ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তখনকার বিধানসভা এলাকা অনুযায়ী তালিকা প্রকাশিত করা আছে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র মিলিয়ে নাম রয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারবেন ভোটারেরা। প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের সাহায্য নিতে পারবেন ভোটাররা।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…