খবর লাইভ : আশ্বিনের শারদপ্রাতে, নদীর জল যেমন ধীরে ধীরে টলমল করে ওঠে, তেমনি মিষ্টি হাওয়া বইতে শুরু করে। শিউলের গন্ধ মুখে মধুর স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। ভোরের কোলে বিরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অনবদ্য কণ্ঠে ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে…’ সুর ধরা পড়ে। এভাবেই বাঙালির হৃদয়ে ‘মহালয়া’ আরম্ভ করে দুর্গাপূজোর উদ্বোধন।
মহালয়া, যে দিন পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা চিহ্নিত। এই দিনটির মাহাত্ম্য ও প্রকৃতি নিয়ে রয়েছে নানা মত। শাস্ত্র বলেই নয়, জনমানসের অনুভবেও এই দিনের প্রতি ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টি। অনেকের কাছে মহালয়া শুভ দিন; আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি রাশিভঙ্গের পাশাপাশি শোক ও স্মরণের দিন।
শাস্ত্রিক ব্যাখ্যা ও ধ্যানধারণা
শাস্ত্র মতে, মহালয়া হলো পিতৃপক্ষের শেষ দিন। পিতৃপুরুষ তথা পিতৃতত্ত্বের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তর্পণ করা হয়। তর্পণ অর্থ জলদান, যা পিতৃতত্ত্বের আত্মার শান্তি ও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এ সময় দেবীপক্ষের সূচনা ঘটায়, পূজার প্রস্তুতি, দেবীর আগমন আর সৃষ্টির এক নতুন সূচনা হয়।
কিছু গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, মহালয়ার দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরের বধের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাই এই দিনটি শুধু সমাপনী নয়, নতুন সূচনার প্রতীক—আশা ও ভক্তির প্রতীক।
শুভ না অশুভ, কী বলছে জনমত
মহালয়াকে শুধু শুভ দিবস বললেও কিছু যুক্তি রয়েছে, যা প্রমাণ করে, এই দিনটি “শোক ও স্মরণের”—তত্ত্বাবধায়ক পিতৃলোকের প্রতি শ্রদ্ধার দিন। এজন্য তাঁদের ধারণা, এই দিনটি কেবল শুভ বললেই চলে না।
অন্যদিকে, যারা মহালয়াকে শুভ হিসেবে দেখেন, তারা বলেন যে পিতৃপক্ষের প্রতি স্মৃতি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দেবীপক্ষের আগমন। এই মিলনক্ষেত্রই মহালয়াকে একটি উৎসবমূলক ও আনন্দময় দিন হিসেবে গড়ে তোলে। তর্পণের মাধ্যমে সর্বভূতের সঙ্গে মানুষের একাত্মতার অনুভব। এই তাৎপর্যই দিনটিকে বিশেষ করে তোলে।
মহালয়ার গভীরতা
মিলনের অনুভূতিঃ মহালয়া এমন একটি মুহূর্ত যা অতীত ও বর্তমানকে সংযোগ করে; যেখানে মৃত পিতৃপুরুষদের স্মৃতি, বর্তমানের অনুভব ও ভবিষ্যতের আশা, সব মিলেমিশে একটা মননগর তৈরি হয়।
শুভাশুভের মানদণ্ডঃ ‘শুভ’ ও ‘অশুভ’-এর ব্যকার্থনা অনেক সময় ব্যক্তির বিশ্বাস, জনজীবন ও পারিবারিক সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে। একটি আচরণ বা দিন যা একের কাছে আনন্দ ও উদ্দীপনা নিয়ে আসে, অন্যের কাছে হতে পারে স্মরণ ও শোকের।
ঐক্যের বার্তাঃ মহালয়া যদিও একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, তবুও এর মধ্যে রয়েছে একসত্ত্বা, পার্থক্য ভুলে যৌথ পূজা ও আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্ততার অনুভব। এটি বাঙালি ও হিন্দু সংস্কৃতির মিলিত চেতনা।
মহালয়া—শুধুই পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের শুরু নয়; এটি অনুভব ও বিশ্বাসের মিলন। শুভ বলেও হতে পারে, অশুভ বলেও—সবটাই নির্ভর করে কীভাবে দেখছেন, কীভাবে অনুভব করছেন। শাস্ত্র বলেছে—যেকোন শুভ কাজ শুরু করার আগে পিতৃপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মরণ জরুরি। মনে রাখতে হবে, মহালয়ার জয়গান অন্যদের স্মরণে, পূজায় আর দেবীদর্শনের অপেক্ষায়।
মহালয়া শুধু একটি দিন নয়—এটি বাঙালির হৃদয় ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…