খবর লাইভ : বুধবার গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি পূর্বঘোষিত পদযাত্রা ও সভাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গোপালগঞ্জ শহর এবং আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন, যাঁদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এনসিপির নেতৃত্বাধীন ছাত্রনেতারা নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরে সভা করার জন্য পৌঁছান। তবে আওয়ামী লীগের কর্মীদের প্রতিরোধের কারণে নির্ধারিত পদযাত্রা শুরুই করা যায়নি। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় কর্মীদের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামি এবং এনসিপি যৌথভাবে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এ আশঙ্কায় মঙ্গলবার রাত থেকেই আওয়ামী লীগ কর্মীরা পাহারা বসান, সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং সমাধিস্থল ঘিরে রাখা হয় সাঁজোয়া যান দিয়ে।
বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশি পাহারায় সভাস্থলে পৌঁছান এনসিপির নেতারা। মঞ্চে ওঠার আগেই সেটি ভাঙচুর করা হয় স্থানীয়দের একাংশের দ্বারা। স্লোগান ও বক্তৃতা শুরুর পর মুজিব ও প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর বক্তব্য পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলে। এরপরই উত্তেজিত জনতা সভাস্থলে চড়াও হয়, শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গুলি চালায়। এ সময় ৪ জন নিহত হন বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আওয়ামী লীগের দাবি, নিহতরা তাদের সমর্থক। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া এনসিপির নেতাদের পরে সাঁজোয়া গাড়িতে তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিকেল থেকেই জনতা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালাতে শুরু করে। গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা হয়, যদিও মূল অবকাঠামো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। জানা গেছে, ওই কারাগারে বর্তমানে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আটক রয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত ৮টা থেকে গোপালগঞ্জ শহরে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী ও র্যাব।
ঘটনার পরপরই বিএনপি ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকার শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। পরে তারা তা প্রত্যাহার করে নেয়।
এদিকে, এনসিপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে হামলার চেষ্টা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য কাজ। তা ঠেকাতে গিয়ে যদি প্রাণ দিতে হয়, আমরাও প্রস্তুত।”
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তদন্তে নিশ্চিত জানতে চাওয়া হয়েছে, আদৌ এই সহিংসতার পেছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…