খেলার শেষদিনে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল ১৩৫ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট। কিন্তু লর্ডসে স্টোকস-আর্চারদের সামনে কার্যত অসহায় লাগল ঋষভ পন্থ (৯), লোকেশ রাহুল (৩৯), ওয়াশিংটন সুন্দরদের(০)। এরপরেই চাপের মুখে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন জাদেজা। শেষদিকে নীতীশ, বুমরাহ ও সিরাজকে নিয়ে হার না মানা লড়াই চালালেন তিনি, কিন্তু শেষরক্ষা হল না। জাদেজা শেষপর্যন্ত ৬১ রানে অপরাজিত থেকে গেলেও ১৭০ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। আর এই হারের মধ্যে দিয়েই সিরিজে ১-২ তে পিছিয়ে গেল ভারত।
লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন থেকে শুভমন, মহম্মদ সিরাজেরা আগ্রাসন দেখিয়ে এসেছেন। সাজঘরে থাকলেও পিছিয়ে ছিলেন না কোচ গৌতম গম্ভীরও! শুধু কথায়, আচরণে আগ্রাসন দেখালেই ম্যাচ জেতা যায় না। ব্যাট বা বল হাতেও জেতার মতো কিছু করতে হয়। টেস্ট অধিনায়কত্বের শৈশবে থাকা শুভমন নিশ্চই প্রথম তিন ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝবেন। প্রথম দু’টেস্টে শরীরী আগ্রাসন কম ছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। সঙ্গে ছিল ব্যাটে, বলে পারফরম্যান্স। প্রথম টেস্ট হারলেও লড়াই ছিল। দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে জয়ই কি লক্ষ্যচ্যুত করে দিল ভারতীয় দলকে? লর্ডসে শেষবেলার লড়াই ছাড়া বলার মতো পারফরম্যান্স বলতে প্রথম ইনিংসে বুমরাহের ৭৪ রানে ৫ উইকেট আর রাহুলের ১০০ রানের ইনিংস।
যশস্বী জয়সওয়াল, শুভমন, নীতীশেরা ব্যাট হাতে ব্যর্থ। করুণ নায়ারের অবস্থা সত্যিই করুণ। চেন্নাইয়ের ২২ গজে ইংরেজদের বোলিং আর ইংল্যান্ডের মাটিতে তাঁদের বোলিংয়ের পার্থক্য অনেক। করুণ ঠেকে বুঝছেন নিশ্চই। অপরাজিত ৩০৩ রানের পর টেস্টে তাঁর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ৪০। নিজের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে আরও ভাল বুঝতে পারবেন। তবু আঙুলে চোট নিয়ে প্রায় এক হাতে ঋষভ পন্থ সাধ্য মতো চেষ্টা করেছেন। বল হাতে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ আকাশদীপ, সিরাজেরা। আসলে ভারত দল হিসাবে ব্যর্থ।